netflix 1899 series review in Bangla
রহস্য, রহস্য, রহস্য!
ডার্ক সিরিজ জুড়ে ছিলো রহস্যের ছড়াছড়ি। তা মেলাতে গিয়ে অনেক অডিয়েন্সেরই মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। কে কারা, সম্পর্কের মারপ্যাঁচ, সময়ের মারপ্যাঁচ সব মিলাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়।
সেই মেকাররা আবার আরেক সিরিজ আনতেছে। জার্মান সিরিজ ১৮৯৯ এর টিজার রিলিজ হলো। কিন্তু অনেকেরই হয়তো একটা ভাবনা, ডার্কের মতো এমন প্যাঁচানো সিরিজ আর হবে?
তবে নিশ্চিন্তে থাকুন যে প্যাচানো হবে কিনা না বলতে পারলেও তারচেয়ে ইন্টারেস্টিং সিরিজ হবে। কেনো জানেন? কারণ থিমটা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল!
টিজার থেকেই বোঝা যাচ্ছে জার্মান এ সিরিজের মেকিং ও দারুণ হবে। বিশেষ করে আগের মতোই ক্যামেরা ওয়ার্ক আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পাবে অডিয়েন্স। এখন আসুন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে বলা যাক।
ছোটবেলায় কালের কন্ঠ, প্রথম আলো, যুগান্তর এসব পত্রিকার ম্যাগাজিন সংগ্রহ এবং টুকটাক নানান ম্যাগাজিন পড়ার অভিজ্ঞতা আমাদের যাদের আছে, আমরা ছোটবেলা থেকেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে অবগত।
সেই সাথে সেবা প্রকাশনীর সাথে সখ্যতা থাকলে কথাই নেই! রীতিমতো দারুণ রোমাঞ্চকর গল্প ও হয়ে যায় রকিব হাসানের কিশোর থ্রিলার "অপারেশন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল" , শামসুদ্দিন নওয়াবের "বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল" এর মাধ্যমে। যাই হোক, আজকে যারা জানেন না তারা এই সিরিজের জন্য হলেও সংক্ষেপে জেনে নিতে পারেন।
*বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল হলো আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি বিশেষ অঞ্চল। এর এক কোণে বারমুডা দ্বীপ আর অন্য দুই প্রান্তে মায়ামি বিচ ও পুয়ের্তে রিকোর সান জুয়ান।
সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাঁচটি টিভিএম অ্যাভেঞ্জার উড়োজাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। সেই থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য কথাটার চল। এরপরও বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ সেখানে নিখোঁজ হয়েছে।
গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এখানে প্রায় ৭৫টি বিমান হারিয়ে গিয়েছে এবং বিমানে থাকা ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিঁখোজ। কয়েক দশক ধরে এক অজানা রহস্যময় স্থান হিসেবে শীর্ষ স্থানে ছিল বিশ্বের এই বিতর্কিত অঞ্চল বারমুডা ট্রায়েঙ্গেল। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় স্থান।
বলা হয় যে সমুদ্রের এই রহস্যময় অঞ্চলের উপর দিয়ে যা কিছু যায় তা একটি অদৃশ্য শক্তি টেনে নিয়ে যায়। গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এখানে প্রায় ৭৫টি বিমান হারিয়ে গিয়েছে এবং বিমানে থাকা ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিঁখোজ। কয়েক দশক ধরে এক অজানা রহস্যময় স্থান হিসেবে শীর্ষ ছিল বিশ্বের এই বিতর্কিত অঞ্চল বারমুডা ট্রায়েঙ্গেল।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ঘিরে নানান লোক কথা প্রচার হতে হতে রহস্যময় এই স্থান ধীরে ধীরে 'ডেভিলস ট্রায়াঙ্গেল' নামেও পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বের এটি এমন এক স্থান- যাকে ঘিরে মানুষের মনে এক মারাত্মক কৌতুহলের তৈরি হয়েছে।
মূলত লেখকদের কারনেই বারবার বারমুডা রহস্য ছড়াতে থাকে। একদিকে দূর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে ব্যর্থ, অপরদিকে লেখকদের নানান লেখা। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিষয়ে বিভিন্ন লেখক রেফারেন্স হিসেবে সর্বপ্রথম ক্রিস্টোফার কলম্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন।
কলম্বাস লিখেছিলেন যে তাঁর জাহাজের নবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি, আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন।
এখন আসুন এবারে দেখা যাক কখন থেকে মূলত এ রহস্যের পুরো পৃথিবীর গোচরে আসে।
ফ্লাইট ১৯, ৫টি টিভিএম আভেঞ্জার টর্পেডো বোমারু বিমানের একটি, যেটি প্রশিক্ষণ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়।
বিমানবাহিনীর ফ্লাইট পরিকল্পনা ছিল ফোর্ট লডারদেল থেকে ১৪৫ মাইল পূর্বে এবং ৭৩ মাইল উত্তরে গিয়ে, ১৪০ মাইল ফিরে এসে প্রশিক্ষণ শেষ করা। বিমানটি আর ফিরে আসেনি। নেভি তদন্তকারীরা নেভিগেশন ভুলের কারণে বিমানের জ্বালানীশূন্যতাকে বিমান নিখোঁজের কারণ বলে চিহ্নিত করে।
বিমানটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের জন্য পাঠানো বিমানের মধ্যে একটি বিমান পিবিএম ম্যারিনার ১৩ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়। ফ্লোরিডা উপকূল থাকা একটি ট্যাঙ্কার একটি বিস্ফোরণ দেখার রিপোর্ট করে ব্যাপক তেল দেখার কথা বলে কিন্তু উদ্ধার অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনা শেষে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠে। সূত্র মতে, সমসাময়িক কালে বাষ্প লিকের কারণে পুরো জ্বালানী ভর্তি অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটার ইতিহাস ছিল।



0 মন্তব্যসমূহ