Shyam Singha Roy Movie Review Bangla

Shyam Singha Roy Movie Review


একটি অত্যন্ত সাধারণ মানের গল্প, যাতে অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভাবে পূনর্জন্ম বিষয়টিকে টেনে আনা হয়েছে। জাতপাতের এই ধরনের বৈষম্য নিয়ে দক্ষিণ ভারতের অনেক সিনেমাই হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টাকে অন্ততঃ সত্তরের দশকের বাংলায় টেনে আনার কোন মানে হয় না। আর এই গল্পটাকেই বাংলার সাথে জোড়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। এটা আদ্যন্ত দক্ষিণী ছবি। এর কেবল মালায়লাম, তামিল এবং তেলেগু (অরিজিনাল) ভার্সন এবং কেবলমাত্র ইংরেজী সাবটাইটেল উপলব্ধ। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে টার্গেট অডিয়েন্স কারা! মাঝখান থেকে বাংলা দেখাতে গিয়ে ইতিহাস, ভূগোল সব গুলিয়ে দেওয়ার জোগাড়! সিনেমার গল্প বলে লাভ নেই। মোটামুটি অধিকাংশ মানুষ জেনেই গেছেন। শুধু যে বিষয়গুলো খুবই দৃষ্টিকটু লাগল, - সেগুলো সম্পর্কেই বলি।

সিনেমাতে যে ধরনের পোড়ামাটির কাজ সমৃদ্ধ বড় বড় মন্দির দেখানো হয়েছে সেক্ষেত্রে খড়্গপুর তথা মেদিনীপুরের বদলে কালিকাপুরের সঙ্গে বাঁকুড়া - বিষ্ণুপুর অঞ্চলের বেশি মিল আছে। আর গ্রামবাসীদের পোষাক দেখে তো ১৯৬৯ এর বদলে ১৮৬৯ মনে হচ্ছে! 

Shyam Singha Roy Movie Review


Shyam Singha Roy Movie Review



সিনেমাতে যে ধরনের পোড়ামাটির কাজ সমৃদ্ধ বড় বড় মন্দির দেখানো হয়েছে সেক্ষেত্রে খড়্গপুর তথা মেদিনীপুরের বদলে কালিকাপুরের সঙ্গে বাঁকুড়া - বিষ্ণুপুর অঞ্চলের বেশি মিল আছে। আর গ্রামবাসীদের পোষাক দেখে তো ১৯৬৯ এর বদলে ১৮৬৯ মনে হচ্ছে! 

১৯৬৯-'৭০ এ পশ্চিমবঙ্গের কোন অঞ্চলে জাতপাতের এত বৈষম্য দেখা যেত, যেখানে কোন সম্প্রদায়কে কুঁয়ো থেকে জল নিতে দেওয়া হত না বা অস্পৃশ্য বলে বিবেচনা করা হত? দক্ষিণ ভারতের এই ঘৃণ্য জাতপাতের প্রথা খামোখা বাঙালিদের ঘাড়ে চাপানোর কি মানে?

পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে নবরাত্রি পালন করা হচ্ছে দুর্গাপুজোর বদলে? নবরাত্রির প্রথমদিন মানে ধারনা করা যায় মহালয়ার কথা বলা হচ্ছে। সকালে নদীতে তর্পন না দেখিয়ে সন্ধ্যায় মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠান!! সেটা কি ভাবে? না, - দেবদাসীদের নাচের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে!! সিরিয়াসলি?? পশ্চিমবঙ্গে ১৯৬৯সালে দেবদাসী প্রথা! তার মধ্যে মাঝির মুখ দিয়ে বলানো হল এরা বাংলাদেশী! অর্থাৎ উদ্বাস্তু বাংলাদেশী অসহায় মেয়েদের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাঠাকুরের মন্দিরে দেবদাসী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করতে হত! ওহ্, সেই দুর্গামন্দিরের ভিতরের দেওয়ালে আবার পোড়ামাটির রাধাকৃষ্ণের মূর্তি দেখা যাচ্ছে। আবার মন্দিরের ভিতরের অংশ দেখলে বাংলা না দক্ষিণ ভারত ভ্রম হয়। আর দুর্গামন্দিরের মহন্ত! তাও আবার ওইরকম দক্ষিণ ভারতীয় বড় মোটা টিকি নিয়ে! সারাদিন ধরে সারাগ্রামে দুর্গাপুজোর কোন চিন্হ নেই! অষ্টমী, নবমীর অঞ্জলী নেই! কিন্তু সন্ধ্যাবেলা মন্দির চত্বরে, খোলা আকাশের নীচে কালী প্রতিমা সদৃশ দুর্গাঠাকুরের সামনে মহন্ত বসে পুজো করছেন!

إرسال تعليق

1 تعليقات